প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে এখনও আওয়ামী দোসরদের দৌরাত্ম টিকে আছে বলে মন্তব্য করে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, তাই দেশ সংস্কারের আগে উপদেষ্টা পরিষদের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে আওয়ামী দোসররা ঘাঁপটি মেরে বসে আছে মন্তব্য করে রাশেদ খাঁন বলেন, উপদেষ্টাদের কেউ কেউ গণহত্যাকারী চিহ্নিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সেল্টার দিচ্ছে। আদালত থেকে উপদেষ্টাদের ইশারায় ডামি এমপিরা জামিন পেয়েছে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, হঠাৎ করে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এখন অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচনের দাবি উঠছে। এরা বিগত ১৭ বছরে অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচনের কথা একবারও বলেনি। বিদেশি মদদে তারা ইনিয়ে-বিনিয়ে গণহত্যাকারী হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার পাঁয়তারা করছেন। কিন্তু ২৪-এর জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলগুলো সেই সুযোগ দেবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দেবো না। গণহত্যাকারী, দেশবিরোধী ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে দেশে আর জায়গা দেওয়া হবে না। ২৪ বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলো নিয়েই অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হবে।
আওয়ামী শাসনামলের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে হাসিনা ধ্বংস করে দিয়েছেন। শেখ মুজিব ৭২-এ বাকশাল কায়েম করে গণহত্যা চালিয়েছিলেন। হাসিনাও তার বাবার মতো একইভাবে গণহত্যা চালিয়ে ছাত্র-জনতাকে শহীদ করেছেন। কাজেই, গণহত্যাকারী হাসিনার ফাঁসি দিতেই হবে। আওয়ামী লীগ ও হাসিনার ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ডামি এমপিরা এখন নানা জায়গায় অর্থ বিলিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেক নেতা মঞ্চে বড় বড় কথা বললেও তলে তলে আওয়ামী ডামি এমপিদের অর্থ নিয়ে তৃণমূলে গিয়ে রাজনীতি করছেন। ডামি এমপি ও আওয়ামী দোসরদের যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন, তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।
রাশেদ খাঁন বলেন, এখনো পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা বা এনসিপির কর্মীরা, বা ছাত্র প্রতিনিধিরা বিভিন্ন অফিসে, সরকারে রয়েছে। তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন কিছুতেই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে আমরা বলেছিলাম, হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, এবারও বলছি দুই-তিনজন ছাত্র প্রতিনিধিরা সরকারের উপদেষ্টা পদ বা সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে অবাদ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না। নির্বাচনের আগে অবশ্যই তাদের পদত্যাগ করতে হবে।
গণঅধিকার পরিষদ ঝিনাইদহ জেলা শাখা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল জাহিদ রাজন, কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল হাসান মিল্টন, পেশাজীবী অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রাসেল আহমেদ, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক রিহান হোসেন রায়হান, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব সাইদুর রহমান, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি রকিবুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মিশন আলী প্রমুখ।