চাপাই নবাবগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আকবর আলী (৫০) নামের এক প্রবীন সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর এলাকার মৃত আলহাজ্ব আবুল হোসেনের ছেলে। গত ১ এপ্রিল গুরুত্বর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য কাটা,ছিলা ও মাথায় বড় ধরনের জখমের (হাসুয়ায় কাটা) চিহ্ন দেখা যায়। এছাড়াও তার ডান পাঁয়ের গোড়ালীর উপরাংশে রগ বরাবর কাটা রয়েছে।
গত ২ এপ্রিল হাসপাতালে আহত সাংবাদিক আকবর আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, সে বিজয় ৭১ নামক অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদনা করেন। এর আগে তিনি আজকালের খবর পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান হিসেবে কাজ করতেন। গত মঙ্গলবার (১এপ্রিল) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার বাখরআলী বাজারে রাত ৯ টার দিকে বসে ছিলেন। রাত বাড়তে থাকায় তিনি বাজার থেকে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাজার থেকে এক দেড়শত গজ সামনে যেতেই জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের সভাপতি বায়েজিদসহ বেশ কয়েকজন আমার সামনে এসে ঘিরে ধরে এবং বলে তুই জামায়াত শিবিরকে গালিগালাজ করেছিস কেন? আমি তাদের বলি, আমি কখনও এই ধরনের কাজ করিনি। কিন্তু তারা আমার কথা না শুনেই এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। বায়েজিদ মোজাম্মেল হক মিছুর ছেলে এবং চাপাই জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি। হামলার সময় বায়েজিদের হাতে থাকা রাম দা দিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারে। এতে চিৎকার করলে আশেপাশে থেকে লোকজন ছুটে এসে আমাকে উদ্ধার করে। এর আগে প্রকাশ্যে গিয়ে আমার বাড়িতেও হামলা চালাই বায়েজিদ গ্যাং। তখন আমার বাসায় দুইটি যুবতী মেয়ে ছিল। তারা ভয়ে দরজা লাগিয়ে ভিতরে কান্নাকাটি করছিল। সেখানেও লোকজন জড়ো হলে তারা পালিয়ে যায়। ঐ ঘটনার পর আবারও ১ এপ্রিল রাতে হামলা করা হলো। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় আমাকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। তিনি আরও জানান, আমি দীর্ঘদিন ঢাকায় ছিলাম। ঈদ উপলক্ষে বাসায় আসি। বাসায় আসলে তারা আমার উপর হামলা করে। এর আসল ঘটনা হলো বায়েজিদ ও তার পরিবারের সাথে জায়গা জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতা ছিল। প্রায় বছর খানেক আগে বিষয়টি নিয়ে মুকদ্দমা চলমান রয়েছে। তারা মামলা তুলে নিতে আমাকে চাপ দিচ্ছিল। আমি মামলা না তুলাই বর্তমানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আমার উপর এইভাবে হামলা করেছে।
এমন অভিযোগ নিয়ে চাপাই নবাবগঞ্জ জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি বায়েজিদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এগুলো বানোয়াট কথা। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। কে বা কারা হামলা করেছে আমি তা জানিনা। পরে কথা হয় উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মুরসালিনের সাথে। এসময় তিনি বলেন, উনি মুলত আওয়ামী লীগের ক্যাডার ছিলেন। তিনি অনেক মানুষের ক্ষতি করেছেন। তাই রাতের আধারে কে বা কারা হামলা করেছে জানিনা। এই আকবর আলী পতিত স্বৈরাচার সরকার শেষ হাসিনা পালানোর পর তিনিও পালিয়েছিলেন। আপনারা নিউজ করলে একটু দেখে শুনে করবেন বলে প্রতিবেদককে হুশিয়ার করেন।
এব্যাপারে চাপাই এর শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি। আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ বা মামলা করতে আসেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।