মনমুগ্ধকর পরিবেশ,উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ ভ্রমনের জন্যে পরিচিত পাহাড়ি কন্যা পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন পর্যটন লেকে এবারে ঈদে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। বিগত ১৬ বছরের রেকর্ট ভেঙ্গে লোকে লোকারণ্য এ পর্যটন স্পটটি। এভাবে নাইক্ষ্যংছড়ি দ্বিতীয় পর্যটন স্পট শৈলচুড়াতেও একই
অবস্থা ঈদের দিন থেকে।
বুধবার ( ২ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিন গিয়ে এ অবস্থার কথা জানালেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে পাশের জেলা ককসবাজার থেকে আসা পর্যটক আবু শাহাদাত,সুমাইয়া জান্নাত ও শিশু মারিয়া জান্নাত এ প্রতিবেদককে বলেন,আনন্দময় ঝুলন্ত সেতু, কারুকার্যময় বসার স্থান, কিটস জোন ও কায়াকিং বোট তাদের দারুণ লেগেছে। তারা সাগরের ঢেউয়ের আছাড় দেখেছে,ছুঁয়েছে লোনা জলও। যাতে মনের দারুণ অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
আর নাইক্ষ্যংছড়ির অনুভূতি অন্য রকম।
অপরূপ সুন্দরের পাহাড়ি পরিবেশ মন বলে আকাশে উড়ছে সকলে। দূরেরনসব পাহাড়ের চুড়া এখানকার ওয়াচ টাওয়ার থেকে দেখা যায়।
স্থানীয়র পর্যটক হাবিব,সোয়েব ও আবু সুফিয়ান বলেন,এখানে অনুমতিক্রমে মাছ ধরার ব্যবস্থার পাশাপাশি ছোট-বড় সকলের বিনোদনের ব্যবস্থা ও থাকার ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে পিকনিকের জন্য উপবন পর্যটন লেককেই বেছে নেয় ভ্রমণ প্রেমিরা।
আর কাজে ডুবে থাকা নানা-পেশার মানুষও বিকেল হলেই রোদ-ছায়ার খেলা চলা পর্যটন কেন্দ্রে ভীড় জমাচ্ছেন। এতে বিকিকিনি বাড়ায় খুশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল আলম ও জহির আহমেদ এর মতে, আশির দশকেও পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি এক ধরনের যোগাযোগহীন ভয় মাখা স্থান ছিল। কিন্ত মতিউর রহমান নামে তৎকালিন এক ইউএনও’র সৃষ্টিশীলতায় গড়ে উঠে নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যটন উপবন লেকটি এখন আধুনিকতায় পর্যটকদের হাত ছানি দেয়।
তারা আরো বলেন,পার্বত্য বান্দরবানের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ি। এর চারপাশে ঘিরে আছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফ। ফলে প্রশাসনিক কর্মকান্ড বাদে উপজেলাবাসীর বাকি সকল কার্যক্রম শেষ করেন পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সাথে। কক্সবাজার সদর থেকে ৩২ কিঃমিঃ আর রামু সদর থেকে মাত্র ১২ কিমি দূরত্বে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর। এখানেই গড়ে উঠেছে এ লেকটি। এ কারণে কক্সবাজার সদর, রামু, ঈদগাঁও, চকরিয়া, উখিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া থেকেও প্রকৃতিপ্রেমীরা সবুজ অরণ্যে ঘেরা লেকের সৌন্দর্য দেখতে ছুটে যান পর্যটকরা।
যোগাযোগ :
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু চা-বাগান এলাকা দিয়ে পূর্ব দিকে চলে যাওয়া সড়কে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর। সড়কটি প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা রামু উপজেলার দখলে। বাঁকখালী নদী পার হয়ে জারুলিয়াছড়ি বেইলি সেতু এলাকা হতেই নাইক্ষ্যংছড়ি সীমানা শুরু। আঁকাবাকা ৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলে সামনে পড়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তা পেছনে ফেলে দুশ’ গজ গেলে ডানপাশের উপসড়ক দিয়েই যেতে হয় উপবন লেকে। মিনিট পাঁচেক গেলেই কাঙ্ক্ষিত লেকটি পাওয়া যায়। কক্সবাজার সদর, রামু বা দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে প্রাইভেট যান বাহন নিয়ে লেকে ঘুরে আসা যাবে।
আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে উপরে উঠতেই নজরে আসবে পাহাড়ের চুড়ায় ছোট বেশ কয়েকটি শৈল্পিক হাতে তৈরী করা বসার স্থান। সড়ক থেকে পর্যটন স্পটে হাতের বাম দিকে তাকালে নজরে আসবে বিশাল জলপ্রপাত। এর একপাশে নজরে আসবে স্থানীয় উপজাতীদের ছোট্ট একটি পাড়া।
চাইলে রামু ও কক্সবাজার সদর থেকে লোকাল মিনিবাস বা সিএনজি টেক্সী করেও লেকে আসা যায়।
উপবন লেকে গিয়ে দেখা যায়, পাশবর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে এবারের ঈদ ও লম্বা ছুটিতে সরকারী-বেসরকারী অফিসের লোকজন। ভ্রমন পিপাসু হাজার হাজার মানুষ এখানে এসেছে। শিশু থেকে আবাল বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সকলের আগমন দারুন দেখা গেছে। ছুটি থাকায় সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারি ও বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ পিকনিক স্পট হিসেবে পরিবার পরিজন নিয়ে উপবন লেকে এসেছেন। পর্যটকদের কেউ দোলনায় দোল খাচ্ছিল, কেউবা লেকের পারে বসে গল্পে মশগুল, আবার কেউবা লেকে পায়ের প্যাডলে চলা নৌকায় ভ্রমন করছেন। বাচ্চাদের আনন্দটাই সবচেয়ে উপভোগ্য।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী টিপু সুলতান ও হান্নান বলেন, দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ি স্থানটি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন। এখানে পর্যাপ্ত হোটেল-রেস্তোরা, সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে।
নাইক্যংছড়ি উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমেন শর্মা বলেন, উপবন পর্যটন স্পটের সৌন্দর্য বর্ধনে করণীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আগত পর্যটকদের সেজন্য বেঞ্চ, টেবিল, শিশুদের জন্য দোলনা, পানির ফোয়ারা, ওয়াচ টাওয়ারসহ বেশ কিছু অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। টাওয়ারে উঠে পাহাড়-প্রকৃতির সৌন্দর্য্য অবলোকন করা যায়। আরো কিছু পরিকল্পনা আছে, বরাদ্দ পেলে তাতে হাত দেয়া হবে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মো: মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী
বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন লেকটি শিল্পময়। পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হযেছে। পর্যটকরা মুক্তমনে এখানে ঘুরে যেতে পারেন।